আমরা লাইভে English শনিবার, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৩

বলিউড অভিনেতা ইরফান খানের স্ত্রীর আবেগপূর্ণ শোকগাঁথা

bottom-8-eng-02-05-2020-tribute

নন্দিত অভিনেতা ইরফান খান – যিনি দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করার পর ২৯ এপ্রিল মুম্বাইয়ে মারা গেছেন, তার স্ত্রী শুক্রবার সকালে তার স্বামীকে স্মরণ করে আবেগপূর্ণ একটি শোকগাঁথা পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, কিভাবে তার স্বামী বহু মানুষের জীবনকে স্পর্শ করেছিলেন এবং কিভাবে “তিনি চিরদিনের জন্য তার (স্ত্রীর) জীবনকে নষ্ট করে দিয়েছেন”।

অন্তরঙ্গ এক বিবৃতিতে প্রযোজক সুতপা সিকদার – যিনি ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার কলেজ দিনগুলোতে প্রথম ইরফানের সাক্ষাত পান – তিনি বলেছেন, কিভাবে খানের জীবনের অ-আমন্ত্রিত অতিথি – ক্যান্সার তাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল। কিন্তু সেই বিশৃঙ্খলাতেও তারা একটা ছন্দ খুঁজে নিয়েছিলেন। আর এটা সম্ভব হয়েছিল খানের মানসিকতা আর জীবন দর্শনের কারণে। 

সুতপা লিখেছেন, “কিভাবে আমি একাকি অনুভব করবো যেখানে বহু মিলিয়ন মানুষ আমাদের সাথে শোক পালন করছে? সবাইকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে, এটা কোন ক্ষতি নয়, এটা একটা অর্জন। সে আমাদেরকে যে সব জিনিস শিখিয়েছিল, সেগুলোর অর্জন হয়েছে এখানে, আর এখন আমরা শেষ পর্যন্ত সেগুলো সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন শুরু করতে পারবো”। ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে পড়ার সময় পরিচয় হয় খান আর সুতপার। সে সময়ই তারা পরস্পরের প্রেমে পড়েন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। 

“তার বিরুদ্ধে আমার একটাই ক্ষোভ রয়েছে, সেটা হলো আমাকে সে চিরদিনের মতো নষ্ট করেছে। পারফেকশানের জন্য তার যে চেষ্টা ছিল, সেটা কোন বিষয়েই সাধারণ তুষ্টি নিয়ে আমাকে স্থির হতে দেয়নি। সবকিছুতেই ও একটা ছন্দ দেখতো, এমনকি কর্কশ শব্দ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যেও। তাই আমিও সেই ছন্দের তালে গাইতে আর নাচতে শিখি, যদিও আমার কণ্ঠ হলো কর্কশ আর পা দুটোও অদক্ষ”। তাদের মিলিত জীবনকে অভিনয়ের মাস্টারক্লাস হিসেবে বর্ণনা করেছেন সুতপা, এবং সেখানে কিভাবে তারা ডাক্তারের রিপোর্টকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন, যেটা তাদের জীবনের চিত্রনাট্য হয়ে উঠেছিল। যে ডাক্তারেরা ক্যান্সারের সাথে খানের অভিজ্ঞতা সহনীয় ও ভালো পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করেছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানান তিনি। 

“এই আড়াই বছরকে আমি দেখেছি ইন্টারলিউড হিসেবে, যেখানে একটা শুরু, একটা মধ্যম আর একটা পরিণতি ছিল যেখানে ইরফান একজন অর্কেস্ট্রা কন্ডাক্টরের ভূমিকায় ছিল, যেটা ছিল আমাদের ৩৫ বছরের সঙ্গীজীবন থেকে আলাদা। আমাদের ঠিক বিয়ে হয়নি, এটা ছিল একটা সম্মিলন। আমি দেখছি আমাদের ছোট্ট পরিবার একটি নৌকায় চলছে, যেখানে আমার দুই ছেলে বাবিল আর আয়ান প্যাডেল করে নৌকাকে এগিয়ে নিচ্ছে, আর ইরফান তাদেরকে পথ বাতলাচ্ছে – ‘ওদিকে না, এদিকে ঘুরো’। কিন্তু জীবন যেহেতু সিনেমা নয় এবং এখানে পুনরায় শট নেয়ার কোন সুযোগ নেই, তাই আমি আন্তরিকভাবে কামনা করি যাতে আমার ছেলেরা তাদের বাবার নির্দেশনা মতো এই নৌকাকে নিরাপদে এগিয়ে নিতে পারে এবং জীবনের ঝড় পাড়ি দিতে পারে”, লিখেছেন সুতপা। 

খান তাদের এমন সব জীবন দর্শন শিখিয়েছে যেগুলো তারা কখনও ভুলবে না। 

“সন্তানদের আমি জিজ্ঞাসা করেছি, যদি সম্ভব হয়, তাহলে বাবার কাছ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটা কি তারা একটা বাক্যে বলতে পারবে। বাবেল বলেছে: ‘এই ব্রহ্মাণ্ডে অনিশ্চয়তার নৃত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করতে শেখো এবং নিজের বিশ্বাসের উপর আস্থা রাখো’। আয়ান বলেছে: ‘নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখো এবং মন যাতে তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে’”।