আমরা লাইভে English বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২

৩৬ ঘণ্টায়ও নেভেনি চট্টগ্রামে কনটেইনার ডিপোর আগুন

ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের ১৮৩ কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেন। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

bm_container_depo_fire_photo_17_0

৬ ঘণ্টা পরেও চট্টগ্রামের বিএম কনটেইনার ডিপোতে লাগা আগুন এখনো নেভেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট। আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৭টায় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রেল রুম অপারেটর।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, ভোর থেকে কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। আগুনের তীব্রতা এখন আবার বেড়ে গেছে। পুরো ডিপো এলাকা এখন যেন যুদ্ধপরবর্তী ধ্বংসস্তূপ। এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছটিয়ে রয়েছে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ভর্তি ড্রাম।

এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে অনেক পণ্যবোঝাই কনটেইনার। শনিবার রাত ও রোববার দিনভর ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আগুন নেভানোর যে প্রাণান্তকর চেষ্টা ছিল, আগুন না নেভায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এখন অনেকটাই হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, '৪৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছি। ৪১ জনের মরদেহ চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৯০ জনের বেশি। গুরুতর দগ্ধ তিনজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে ১৫ জন, জেনারেল হাসপাতালে ৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।"

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ইউনিট আরও বাড়ানো হয়। সবমিলিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের ১৮৩ কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেন। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বিএম কনটেইনার ২৪ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি মূলত পণ্য রপ্তানিতে কাজ করে। এখান থেকে পণ্য রপ্তানির জন্য কনটেইনারগুলো প্রস্তুত করে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। ৩৮ ধরনের পণ্য রপ্তানিতে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।

ঘটনার সময় সেখানে ৫০ হাজার কনটেইনার ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় অন্তত ২০০ শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। তবে ঠিক কত সংখ্যক মানুষ তখন ছিলেন তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি।