আমরা লাইভে English সোমবার, মে ১৬, ২০২২

দিল্লির শাহিনবাগ দাঙ্গায় এক যুবকের কারাদণ্ড

prothomalo-bangla_2022-01_dbe4ffe0-49aa-4250-9c5f-b831f482b5b8_137553_NAYWJSWQMU_1583036026090125

ভারতের দিল্লির শাহিনবাগের দাঙ্গায় এই প্রথম নিম্ন আদালতে সাজা হলো দীনেশ যাদব নামের ২৫ বছরের এক যুবকের। দিল্লির অতিরিক্ত দায়রা জজ বীরেন্দ্র ভাট গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার রায়ে দীনেশকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ সঙ্গে জরিমানাও করা হয়েছে ১২ হাজার রুপি।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে দিল্লির শাহিনবাগ অঞ্চলে যখন আন্দোলন চলছিল এবং কোভিডের সংক্রমণ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছিল সারা ভারতে, তখন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে ঘটে ভয়াবহ ওই দাঙ্গা। পূর্ব ও উত্তর–পূর্ব দিল্লিতে তিন দিনের দাঙ্গায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছিলেন। আহতের সংখ্যা ছিল চার শতাধিক। বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ওই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের জেরে সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। পুড়েছিল বহু ঘরবাড়ি ও দোকান। ১৯৮৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর এটাই ছিল সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।

দীনেশ যাদবের অপরাধ, তিনি ভাগীরথি বিহারে ৭৩ বছর বয়সী মনোরি নামে এক নারীর বাড়িতে অন্যদের সঙ্গে চড়াও হয়েছিলেন। অপরাধীরা সেই বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তার আগে লুটপাট চালিয়েছিল। মনোরি আদালতে সাক্ষ্যদানকালে বলেছিলেন, দাঙ্গাকারীর সংখ্যা ছিল ১৫০ থেকে ২০০। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সেই আক্রমণের সময় কোনোরকমে পালিয়ে তিনি প্রতিবেশীর গৃহে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

মনোরি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ছাড়া দাঙ্গাকারীদের মধ্যে দীনেশকে শনাক্ত করেছিলেন দুই পুলিশ কনস্টেবল। যদিও তাঁরা আদালতকে জানান, দীনেশকে আগুন দিতে বা লুট করতে তাঁরা দেখেননি।

অতিরিক্ত দায়রা জজ বীরেন্দ্র ভাট তাঁর রায়ে জানান, দীনেশ দাঙ্গায় অংশ নিয়েছিলেন। আগুন না লাগালেও অংশগ্রহণের অপরাধ তিনি এড়াতে পারেন না।

গত ৬ ডিসেম্বর দীনেশ অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু বিচারক শাস্তির ঘোষণা দেননি। গতকাল সেই ঘোষণা এল। দিল্লি দাঙ্গার যতগুলো মামলা হয়েছে, এই প্রথম সেগুলোর একটির সাজা ঘোষিত হলো। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর দাঙ্গাসংক্রান্ত এক মামলায় আদালত এক অভিযুক্তকে মুক্তি দিয়েছিলেন। কালিম আহমেদ নামের সেই ব্যক্তি শাহরুখ পাঠান নামের এক দাঙ্গা–অভিযুক্তকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। সেই অপরাধে সাজার চেয়ে বেশি দিন জেলে থাকায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ওই ব্যক্তি তাঁর অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনাও করেছিলেন। তাঁকে দুই হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছিল।

বুধবার দাঙ্গাসংক্রান্ত অন্য এক মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট ছয় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিন দেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দিল্লির গোকুলপুরী এলাকায় কয়েকটি দোকানে আগুন লাগানো ও লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে। সে সময় এক দোকান থেকে দিলবর নেগি নামের এক কর্মীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছিল।