আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০২, ২০২১

আফগানিস্তান সফরে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আফগানিস্তান সফরে গেছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরাহমান আল-থানি। রবিবার কাবুলে পৌঁছে তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

কাতারকে তালেবানের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী দেশগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দলটির রাজনৈতিক দফতরও কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত। সেখানে দলটির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আর মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পটভূমিতে গত ১৫ আগস্ট প্রায় বিনা বাধায় কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিতে সমর্থ হয় তালেবান।

দলটি ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কাতার। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পশ্চিমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করা বিপুল সংখ্যক আফগান নাগরিককেও দেশ ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি কাবুল বিমানবন্দরে শিগগিরই নিয়মিত ফ্লাইট চালুরও ঘোষণা দেয় দোহা। মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো সেখানে উড্ডয়ন করে কাতার এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ। তালেবানের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট উড্ডয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য কাতারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এয়ারপোর্ট ফের চালুর মাধ্যমে সব মুসলিম ও অন্যান্য দেশের আফগান জনগণের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোও তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগে কাতারের সাহায্য নিচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র উপদেষ্টা দিনা এফসানডিয়ারি বলেন, কাতারের সহযোগিতা ছাড়া আফগানিস্তান থেকে লোকজনকে প্রত্যাহার করতে পারেনি বড় কোনও দেশ। দোহার জন্য এটি একটি বড় বিজয়। তারা যে শুধু তালেবানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করেছে তা-ই নয়, বরং পশ্চিমাদের কাছেও তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চতায় পৌঁছেছে।